
লাবনী নামের অপূর্ব সুন্দরী এক মেয়ে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে রাহাতদের রান্নাঘরে। চাপাতি দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে লাবনীর বাম পায়ের একাংশ, শরীরে রয়েছে আরাে ছােট বড় ক্ষত। প্রেমিকের বাসায় এরকম একটা লােমহর্ষক ঘটনা দেখে একেবারে হতভম্ব হয়ে গেল রিতিশা। বাড়িতে রাহাত আর তার মা সাদিয়া বেগম ছাড়া আর কেউ ছিল না। অথচ দুজনেই অস্বীকার করছে খুনের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি। তৃতীয় কারাে প্রবেশেরও উপায় নেই, বাইরের গেট, দরজা সব বন্ধ ছিল রাতে। তাহলে কীভাবে খুন হলাে লাবনী? অশরীরীয় কোনােকিছুর হাত আছে নিশ্চয়! পুলিশ অবশ্য বিশ্বাস করল না রাহাতের বক্তব্য। গ্রেফতার করল তাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় স্ট্রোক করলেন সাদিয়া বেগম। আপন বলতে তাদের তেমন কোনাে আত্মীয় স্বজন নেই। ভরসা রিতিশাই। রিতিশা অবশ্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যে কোনাে উপায়ে মুক্ত করবে রাহাতকে। কারণ সে বিশ্বাস করে, ভার্সিটির নবীন শিক্ষক রাহাত কিংবা তার মা এরকম হত্যাকান্ডে জড়িত থাকতে পারে না। কিন্তু বাস্তবতা যে বড় কঠিন। কেউ নেই তার সাথে। এক পর্যায়ে সে যখন হতাশ, বিষাদগ্রস্ত, তখনই ঘটনাক্রমে তার সাথে সাক্ষাৎ হয় ডাক্তার তরফদারের। একটা একটা করে রহস্যের জট খুলতে থাকেন তিনি। মানসিক চিকিৎসার পাশাপাশি অশরীরীয় শক্তি খুঁজতে গিয়ে এবার তিনি হয়ে ওঠেন প্যারাসাইকোলজিক্যাল ইনভেস্টিগেটর।
শেষ পর্যন্ত কী ডাক্তার তরফদার লাবনীর প্রকৃত খুনীকে সনাক্ত করতে পেরেছিলেন? আর কী ঘটেছিল রিতিশার জীবনে? সে কী ফিরে পেয়েছিল তার স্বপ্নের রাহাতকে?লায়লার ফাঁসি হবে, ব্যাপারটা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না লায়লার স্বামী আমিন। কারণ লায়লা কোনো অপরাধ করেনি, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। নিরপরাধ একজন মানুষের ফাঁসি হবে কেন? অথচ সে জানে লায়লার ফাঁসি হবেই হবে। কারণ লায়লা যা বলে তা কখনো মিথ্যা হয় না। লায়লাকে বাঁচাতে তখন মরিয়া হয়ে উঠে আমিন। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে ছুটে যায় ডাক্তার তরফদারের কাছে। লায়লা এবং আমিনের ধারণা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা তা প্রথম দিনেই প্রমাণ করে দেয়ার চেষ্টা করেন ডাক্তার তরফদার। কিন্তু বাঁধ সাধে লায়লার সৃষ্ট এক সুরের গান। এই সুরের গানের উৎস খুঁজতে গিয়ে ডাক্তার তরফদার হারিয়ে যেতে থাকেন নীল জোছনার জীবন নামক রহস্যময় এক জীবনে, যে জীবন লায়লাকে ভবিষ্যৎ বলার ক্ষমতা দিয়েছে, অতীত দেখার ক্ষমতা দিয়েছে, দিয়েছে অসহায় হতদরিদ্র মানুষের প্রতি তীব্র ভালোবাসা সৃষ্টির ক্ষমতা। ডাক্তার তরফদার উপলব্দি করেন লায়লার জীবন প্রবাহের গতি পৃথিবী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত নয়, নিয়ন্ত্রিত নীল জোছনার জীবনের অদৃশ্য এক শক্তি কর্তৃক যে শক্তি ধীরে ধীরে লায়লাকে ফাঁসির দিকেই ধাবিত করছে। তারপরও হাল ছাড়েন না তিনি। নীল জোছনার জীবনের অদৃশ্য ঐ শক্তিকে থামিয়ে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু প্রত্যেকবারই ব্যর্থ হতে থাকেন তিনি। একসময় হোঁচট খেতে খেতে সত্যি হাল ছেড়ে দেন। ফাঁসির দড়ি তখন লায়লার একেবারে সামনে।
শেষ পর্যন্ত কী লায়লা বাঁচতে পেরেছিল? আর কী-ই-বা ছিল সেই নীল জোছনার জীবনের রহস্য?
শাহেদ মাধবীকে দেখছে আর দেখছে। মাধবী, অনিন্দ্য সুন্দর মাধবী! সে যতই দেখে ততই অবাক হয়, একবার দেখে তো আবার দেখতে ইচ্ছে করে, আবার দেখে তো হাজারবার দেখতে ইচ্ছে করে। চিন্তা-চেতনা, জল্পনা-কল্পনা, আশা-ভালোবাসায় শুধু মাদবী আর মাধবী। কিন্তু কে এই মাধবী? জানতে চেয়ে বিস্মিত হয় শাহেদ। এ কী বলছে মাধবী! দুইশো বছর আগে নাকি তাদের পরিচয়। অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়! কে বিশ্বাস করবে এই পরাবাস্তবতাকে? অথচ একসময় মাধবীর সব কথা সত্য প্রমাণিত হতে থাকে। প্রমাণিত হতে থাকে শাহেদ জন্মেছিল, জন্মেছিল দুইশো বছর আগে, ঠিক মাধবীর পাশে, মাধবীরই ভালোবাসার পরশে। কিন্তু নিষ্ঠুর নিয়তি আর সমাজের জাঁতাকলে একসময় হারিয়ে যায় শাহেদ। তবে হারানোর আগে সে চিৎকার করে বলে যায়, সে ফিরে আসবে, ফিরে আসবে তার প্রিয়, অতি প্রিয় ভালোবাসার কাছে, কোনো-এক জোছনা রাতে জ্বলজ্বলে জোনাকি হয়ে। তাই তো অপেক্ষায় থাকে মাধবী, এক দুটি দিন নয়, এক দুটি মাস নয়, এক দুটি বছর নয়, এক দুটি যুগ নয়, দীর্ঘ দুই দুটি শতাব্দী। তারপর, তারপর... সত্যি আবার তাদের দেখা হয়, দেখা হয় নীরবে নীভৃতে সঙ্গোপনে শুধুই রাতের অন্ধকারে। কিন্তু প্রকৃতি যে বড় নিষ্ঠুর! বড় নির্মম। আগের মতোই ভয়ালরূপে আবির্ভূত হয় দুজনের মাঝে। তারপর গ্রাস করতে থাকে শত বছর ধরে অপেক্ষমাণ নির্মল পবিত্র ভালোবাসার অপূর্ব সুন্দরী মাধবীকে। শাহেদ আর সহ্য করতে পারে না। সে চিৎকার করে ছুটতে থাকে মাধবীর পিছনে, মাধবীকে যে আর সে হারাতে চায় না, কিন্তু সে পেরে ওঠে না... তার পরও সে ছুটতে থাকে... ছুটতে থাকে তার প্রিয়, অতি প্রিয় ভালোবাসা আর ভালোবাসার মাধবীর পিছনে।
শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল শাহেদ আর মাধবীর ভাগ্যে?
নাজমুল হাসান এবং শিখা রহমানের একমাত্র সন্তান অনিক। বয়স আট বছর, ক্লাস টু-এর ছাত্র। একদিন রাতে হাঠৎই অনিক বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল। অনেক খুঁজে তাক পাওয়া গেল বাড়ির বাগানের মধ্যে। জোছনা রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে সে চাঁদ দেখছে আর কার সাথে যেন কথা বলছে। অথচ আশেপাশে কেউ নেই। কার সাথে কথা বলছে-জানতে চাইলে অনিক জানাল, সে তার মায়ের সাথে কথা বলছে। শিখা রহমান এবং নাজমুল হাসান বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেলেন। এখানেই শেষ নয়। সময়ের সাথে সাথে অনিকের আচরণে ভয়ংকর সব পরিবর্তন আসতে লাগল। এক পর্যায়ে সে জানাল তার বাবা মৃত এবং তার মা অসুস্থ। মাঝে মাঝে সময়ে তার মা তার কাছে আসে এবং কথা বলে। সুযোগ পেলে সে তার মায়ের কাছে চলে যাবে। কথাগুলো শোনার পর শিখা রহমানের শয্যাশায়ী হওয়ার মতো অবস্থা। কী বলছে অীনক! যে অনিককে তিনি নিজে পেটে ধরেছেন সেই অনিক কি না বলছে তার মা অন্য একজন! সমস্যার সমাধানে নাজমুল হাসান এবং শিখা রহমান এলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তরফদারের কাছে। সবকিছু শোনার পর ডাক্তার তরফদার অনিকের অদৃশ্য মাকে খুঁজে বের করার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। কিন্তু এত সহজ নয় অদৃশ্য একজন মানুষকে খুঁজে বের করা!
শেষ পর্যন্ত ডাক্তার তরফদার কী পেরেছিলেন অনিকের রহস্যময়ী অদৃশ্য মাকে খুঁজে বের করতে? আর কী ছিল রহস্য?