লেলিন স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। থানমন্ডি থানার সামনে আসতে দেখে হারুন নামের এক যুবককে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তার অপরাধ, তার কাছে নকল ডলার পাওয়া গেছে। ঘটনাক্রমে লেলিন জানতে পারে হারুন প্রতারণার শিকার হয়েছে এবং তার ডলার প্রতারকরা নিয়ে তাকে জাল ডলার দিয়ে গেছে। এই প্রতারকরা সকলে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুর্ধর্ষ ডলার গ্যাং এর সাথে সম্পৃক্ত। শিশির আর লেলিন বাস্তবতা বুঝতে পেরে সিদ্ধান্ত নেয় হারুনকে সহায়তা করবে। একসময় তারা বুঝতে পারে জন, হ্যারি, ওগোলো নামের বিদেশিরাও সম্পৃক্ত ডলার গ্যাং এর সাথে। তারপরও ভীত না হয়ে তারা প্রবেশ করে ডালার গ্যাং এর গোপন আস্তানায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের, আটক হয়ে ডলার গ্যাংদের হাতে। এখন হত্যা করা হবে তাদের। এরকমই চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছে ডলার গ্যাং এর ভয়ংকর সদস্যরা।
শেষ পর্যন্ত কী নিজেদের মুক্ত করতে পেরেছিল শিশির লেলিন? আর হারুনের ভাগ্যে কী ঘটেছিল? ডলার গ্যাংদের পরিনতিইবা কী হয়েছিল?
হঠাৎই সংবাদটা দেখতে পায় লেলিন। স্থানীয় মাস্তান রাজু এবং সাজু, মোহাম্মাদপুর বেড়িবাঁধের পাশের একটি জমি থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করছে অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানকে। খবরটি দেখার সাথে সাথে শিশির আর লেলিন ছুটে যায় বেড়িবাঁধে। পরিচিত হয় মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানের সাথে। সবাই তাকে ডাকে ’পতাকা দাদা’ বলে, কারণ তিনি পতাকা বিক্রি করেন। কিন্তু ’দেশ, মুক্তি, পতাকা’ এরকম কয়েকটি শব্দ ছাড়া কিছুই বলতে পারেন না। পাকিস্তানী মিলিটারিদের নির্যাতনে স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি, কাউকে ঠিকমতো চিনতেও পারেন না। তবে ’স্বর্ণ পতাকা’ বললেই মাটি খুঁড়তে শুরু করেন। স্বর্ণ পতাকার যে বিশেষ কোনো রহস্য আছে বুঝতে পারে শিশির আর লেলিন। তাদের ধারণা স্বর্ণের কোনো পতাকা হয়তো লুকিয়ে রাখা হয়েছে মাটির নিচে, সেই পতাকাই খুঁজেন মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান। বিষয়টা নজর কাড়ে আশেপাশের মানুষেরও। স্বর্ণ পতাকার রহস্য উন্মোচনে উঠে পড়ে লাগে ক্ষুদে দুই গোয়েন্দা। তাদের এই উপস্থিতি ভালোভাবে নেয়নি রাজু আর সাজু। কারণ তাদের পরিকল্পনায় বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে শিশির আর লেলিন। তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় হত্যা করবে মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানকে এবং দখল করে নেবে তার সকল সম্পত্তি। পাশাপাশি খুঁজে বের করবে রহস্যময় স্বর্ণ পতাকা, তাহলেই বড় লোক হতে পারবে তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক রাতে সত্যি তারা অপহরণ করে সবার প্রিয় ’পতাকা দাদা’কে।
শেষ পর্যন্ত কী পতাকা দাদাকে উদ্ধার করতে পেরেছিল শিশির আর লেলিন? আর কী রহস্যই বা লুকিয়ে ছিল স্বর্ণ পতাকায়?
শিশির আর লেলিন বাসায় ফিরছিল। খনিকটা পথ আসার পর তাদের চোখের সামনে একটা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটল। একটা রিকশাকে ধাক্কা দিয়েছে প্রাইভেটকার। রিকশার যাত্রী গ্রাম থেকে আসা নয়ন স্যার মারাত্মক আহত হন ঐ দুর্ঘটনায়। সাথে ছোট্ট মেয়ে নিপা আর মাজেদা খালা। কেউ যখন তাদের হাসপাতালে নিচ্ছিল না তখন শিশির আর লেলিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তার জানায়, বিদেশে চিকিৎসা দরকার নয়ন স্যারের, কারণ মাথার আঘাতটা মারাত্মক। পাশাপাশি নিপাও অসুস্থ, ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসাও করতে হবে বিদেশে। অনেক টাকা দরকার। কিন্তু তাদের তেমন কোনো টাকা পয়সা নেই। এদিকে নয়ন স্যারকে ইনজেকশন দিতে গিয়ে প্রমাণিত হলো অ্যান্টিবায়োটিকস্টা নকল। নকল ওষুধের রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডের ভয়ংকর চক্রের হাতে বন্দি হয় শিশির। লেলিন মরিয়া হয়ে উঠে তাকে বাঁচানোর জন্য। ততক্ষণে যে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কারণ হাই ডোজের মরফিন ইনজেকশন হাতে এক মৃত্যুদূত এগিয়ে আসছে শিশিরের দিকে। হাত পা বাঁধা শিশিরের শরীরে ইনজেকশন পুশ করলেই মৃত্যু হবে তার। সেক্ষেত্র চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে শিশিলিনের কার্যক্রম।
শেষ পর্যন্ত কী ক্ষুদে গোয়েন্দা লেলিন উদ্ধার করতে পেরেছিল শিশিরকে? নাকি করুন মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল তাকে। আর কী ঘটেছিল গ্রাম থেকে আসা শিক্ষক নয়ন স্যার আর ছোট্ট নিপার? তারাও কী বাঁচতে পেরেছিল? নাকি ধুকে ধুকে মৃত্যু হয়েছিল তাদেরও?
শিক্ষাসফরে এসে বিজ্ঞানী মামার সাথে পরিচয় হয় শিশির আর লেলিনের। বিজ্ঞানী মামা এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। বিজ্ঞানকে সবার কাছে সহজ আর জনপ্রিয় করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন তিনি। বিজ্ঞানের পাশাপাশি তার চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারাণায় রয়েছে শুধু দেশ আর দেশের মানুষ। কীভাবে অন্যের উপকার করা যায় এই যেন তার সবময়ের ভাবনা। অথচ কী অদ্ভুত! দেশপ্রেমিক এই বিজ্ঞানী মামার হাঁসের খামার থেকে হাঁস যাচ্ছে একটার পর একটা। কে বা কারা যেন করছে। এই চোর ধরার দায়িত্ব পায় শিশির আর লেলিন। বিলের মধ্যে পড়ে দেখতে দেখে রক্তাক্ত হাঁস, পা আর মাংসল শরীর। বুঝতে পারে চোর বড় চালাক! তার থেকে বড় কথা, হিং¯্রও বটে! এক সময় অনুধাবন করে, চোর ধরতে এসে তারা সন্ধান পেয়েছে ভয়ংকর এক চক্রের, যে চক্র কিনা দেশ ও জাতির মেরুদন্ডকে ভেঙ্গে দিচ্ছে। যখন ভাবছে পুলিশকে জানাবে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বুঝতে পারছে মত্যু আসন্ন। কারণ তাদের দিকে তাক করে পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে আছে দুর্ধর্ষ চক্রের নেতা। এখনই গুলি করে খুলি উড়িয়ে দেবে!
শেষ পর্যন্ত কী বাঁচতে পেরেছিল শিশির আর লেলিন? খোঁজ পেয়েছিল বিজ্ঞানী মামার হাঁস চোরের? আর কী হয়েছিল ভয়ংকর দুর্ধর্ষ সেই চক্রের?
লতিফ শিশির আর লেলিনদের স্কুলে চাকরি করে। হঠাৎই তার বাসায় চুরি হয়ে যায়। চোর একটি আংটি এবং তিন হাজার টাকার প্রাইজবন্ড চুরি করে। আর চুরি করে টিয়া। টিয়াটা পালত লতিফের মেয়ে নিতু। টিয়া হারিয়ে নিতু পাগলপ্রায় হয়ে যায়, বন্ধ করে দেয় খাওয়া দাওয়া, ভেঙ্গে পড়তে থাকে মানসিকভাবে। টিয়াটির অন্যতম বৈশিষ্ট ছিল কথা বলতে পারত টিয়াটি। নিতুকে সুস্থ করতে হলে খুঁজে পেতে হবে টিয়াটিকে। এই দায়িত্ব দেয়া হয় শিশিলিনের উপর।
টিয়া উদ্ধার অভিযানে নেমে শিশির লেলিন বুঝতে পারে কত কষ্ট চুরি হওয়া পাখি উদ্ধার করা। চোরাই পাখি বিক্রির আন্ডারওয়ার্ল্ডের ব্যক্তিরা যেমন চালাক তেমনি ভয়ংকর। খুব সতর্কভাবে এগোতে থাকে শিশির লেলিন। কিন্তু পদে পদে হতাশ হতে থাকে তারা। চোর খুব চালাক, ধরা দিতে চায় না।
অবশেষে চোরের সন্ধান পায় শিশির আর লেলিন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তারা বন্দি হয়ে পড়েছে গোপন এক অজানা ঘরে। কেউ জানে না তাদের অবস্থান। কালো পোশাক পরা চোরের হাতে একটা হাতুড়ি। এগিয়ে আসছে তাদের দিকে। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাদের মাথা আলুভর্তা বানিয়ে ফেলবে। সেক্ষেত্রে বাঁচার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
শেষ পর্যন্ত কী শিশির আর লেলিন মুক্তি পেয়েছিল গোপন ঘর থেকে? আর উদ্ধার করতে পেরেছিল নিতুর টিয়াকে?
মুনিয়া ক্লাস সেভেনে পড়ে। একদিন সে শিশির লেলিনকে জানালো তাদের বাসার পাশে লাল ইটের একটা বাড়ি আছে। ঐ বাড়িটা খুব রহস্যময়! কারণ গভীর রাতে বাড়িটাতে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করে। বেশ অনেকক্ষণ থেকে আবার বের হয়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সটা যখন আসে তখন কোনো সাইরেন বাজায় না, চলে যাওয়ার সময়ও না। দিনের বেলায়ও মানুষের আনাগোনা একেবারে কম দেখা যায় ঐ বাড়িতে। স্থানীয় মানুষজনও খুব একটা প্রবেশ করে না। একদিন সে ঐ বাড়ির সামনে থেকে একজন মানুষকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে দেখেছে। তারপর আর বের হয়নি মানুষটি। এজন্য সে ঐ বাড়িটির নাম দিয়েছে রহস্যবাড়ি। তার ধারণা ঐ বাড়ির অভ্যন্তরে এমন কিছু ঘটছে যা জানা দরকার, এতে মানুষের উপকার হবে।
সবকিছু শোনার পর শিশির লেলিন রাজি হলো রহস্যবাড়ির রহস্য উন্মোচন করতে। কিন্তু বাস্তবে যে বড় কঠিন কাজটা। কারণ অনেক চেষ্টার পরও বাড়ির অভ্যন্তরে কারা থাকে, কী করে সে বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য জোগাড় করতে পারেনি তারা। আর তাছাড়া ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি ঐ রহস্যবাড়ির তথ্য অনুসন্ধান করার প্রতিক্রিয়ায় তাদেরই উপর নজরদারী শুরু করেছে কেউ, সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে তাদের হত্যা করার।
শেষ পর্যন্ত কী শিশির লেলিন রহস্যবাড়ির রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছিল? নাকি তাদের পরাজিত হতে হয়েছিল রহস্যবাড়ির রহস্যময় মানুষদের কাছে?
‘যাত্রা’ দেখতে গিয়ে লেলিনের সাথে পরিচয় হয় যাত্রাপালার সেনাপতি জব্বার খিলজির মেয়ে সবুজ চোখের আসমার সাথে। কথাপ্রসঙ্গে জানতে পারে জব্বার খিলজির কাছে একটা রুপার সিন্দুক আছে যেখানে রয়েছে অনেক হীরা জহরত। জব্বার খিলজি তার পূর্বপুরুষের কাছ থেকে পেয়েছে রুপার সিন্দুকটি। একমাত্র বিপদগ্রস্ত হলে ঐ সিন্দুক থেকে হীরা জহরত বের করে বিক্রি করা যাবে। জব্বার খিলজি অসুস্থ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রুপার সিন্দুকটি ভাঙা হবে, কারণ চাবিটি আগেই হারিয়ে গিয়েছিল। তাই দিন ক্ষণ ঠিক হয় রুপার সিন্দুক ভাঙার। সবার মধ্যে তীব্র আগ্রহ জন্মে ঐ রুপার সিন্দুককে কেন্দ্র করে, সবাই দেখতে চায় অমূল্য হীরা, জহরত আর অলংকারাদি। আগ্রহী হয়ে ওঠে শিশির লেলিনও। সিন্দুক ভাঙার সময় দুজনেই উপস্থিত থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু রাতের অন্ধকারে আচমকাই চুরি হয়ে যায় ঐতিহাসিক গুরুত্ববহনকারী মহামূল্যবান রুপার সিন্দুকটি। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, সিন্দুক উদ্ধারে ততক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শিশির আর লেলিন।
শেষ পর্যন্ত কি শিশিলিনের ক্ষুদে গোয়েন্দারা উদ্ধার করতে পেরেছিল মহামূল্যবান রুপার সিন্দুক? আর ঐ সিন্দুকে কি আদৌ কোনো হীরা জহরত ছিল? নাকি সবকিছুই ছিল নিছক এক শূন্যতা আর গোলকধাঁধা!
জমিদার শংকর রায়ের গুপ্তধন উদ্ধার করতে গিয়ে মহাবিপদে পড়ল শিশির আর লেলিন। প্রথমে হুমকি ধামকি দেয়া হলেও পরে পাঠিয়ে দেয়া হলো কাফনের কাপড়। স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হলো তারা যদি চলে না য়ায় তাহলে দুজনকেই হত্যা করা হবে। তারা বুঝল কোনো এক অদৃশ্য শক্তি চাচ্ছে না গুপ্তধন উদ্ধার হোক। কিন্তু পিছু হটার পাত্র নয় শিশিলিনের ক্ষুদে দুই গোয়েন্দা। দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে জমিদার শংকর রায়ের গুপ্তধন উদ্ধারে মনোনিবেশ করে। সঙ্গী হলো সমবয়সী বকুল। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি প্রতিপক্ষ কতটা ভয়ংকর। গুপ্তধন যখন তাদের হাতের নাগালে তখনই অনুধাবন করল মৃত্যু আসন্ন। চাইলেও ফিরে যেতে পারবে না। উদ্ধার করার মতোও কেউ নেই। তাহলে কী মৃত্যুই একমাত্র পরিনতি? আর কী হয়েছিল শংকর রায়ের মহামূল্যবান গুপ্তধনের?
লালপুর গ্রামে শিক্ষা সফরে এসেছে শিশির। এসেই জানতে পারল জব্বার মামা নিখোঁজ। তার খোঁজে তার পালিত ভাগ্নে বাবুল পাগলপ্রায়। জব্বার মামাকে খুঁজতে গিয়ে শিশির জানতে পারল খুলি বাবার কথা। খুলি বাবার ঐশ^রিক ক্ষমতা রয়েছে। থাকে টিলার উপর, সারিয়ে ফেলতে পারে যে কোনো অসুখ। খুলি বাবার ঐশ^রিক ক্ষমতার উৎস জানার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে শিশির। তার সাথে এসে যোগ দেয় লেলিন। দুজন নামে গোপন অভিযানে। একসময় বুঝতে পারে রহস্যময় কিছু মানুষ আসে খুলি বাবার টিলায়। তার রাতের অন্ধকারে আসে আবার রাতেই চলে যায়। এই মানুষগুলো খুব ভয়ংকর। কারণ তাদের কাছে অস্ত্র থাকে। কারা এরা? রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে শিশির লেলিন আটক হয় রহস্যময় মানুষগুলোর কাছে। তারা সিদ্ধান্ত নেয় হত্যা করবে শিশির আর লেলিনকে। বস্তায় ভরে নিক্ষেপ করে খালের পানিতে। কেউ নেই তাদের বাঁচানোর?
শিশির বুঝতেই পারেনি যে রেড ড্রাগন এতটা ভয়ংকর হতে পারে। রেড ড্রাগনকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে নিজেই আটকা পড়ে গেছে রেড ড্রাগনের ফাঁদে। এখন হাত পা বেঁধে তাকে ফেলে রেখে হয়েছে গোপন এক কক্ষের মধ্যে। আসলে কক্ষ নয়, বড় একটা কোল্ড স্টোরে। এই স্টোরের মধ্যে শুধু ইলিশ মাছ আর ইলিশ মাছ। ইলিশ মাছ বড় পছন্দের রেড ড্রাগনের। এরইমধ্যে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। এভাবে তাপমাত্র কমলে একসময় জমে যাবে তার শরীর। তারপর নিশ্চিত মৃত্যু। এমনই চাচ্ছে রেড ড্রাগন। মৃত্যুর পর কী হবে তা আর ভাবতে চাচ্ছে না শিশির। এখন একমাত্র ভরসা লেলিন। লেলিন চেষ্টা করছে তাকে উদ্ধার করতে। কিন্তু যখন দেখল লেলিনও আটক হয়েছে রেড ড্রাগনের হাতে তখন একেবারেই হতাশ হয়ে পড়ল সে। হাত পা বাঁধা লেলিন তার সামনে এখন। শীতে সে নিজে যেমন কাঁপছে, একইভাবে কাঁপছে লেলিনও। মুক্তির কিংবা পালানোর কোনো সুযোগ নেই। বাইরে রেড ড্রাগন, সজাগ-সতর্ক। অপেক্ষা করছে তাদের মৃত্যু প্রহরের। এদিকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে আরো দ্রæত। মেঝেতে যে পানি ছিল তাও বরফে পরিণত হয়েছে। একটা হাত অবশ হয়ে আসছে। শক্তি পাচ্ছে না শরীরে, ঝাপসা হয়ে আসছে চোখ। বুঝতে পারছে মৃত্যু আসন্ন?
শেষ পর্যন্ত কী নিজেদের মুক্ত করতে পেরেছিল শিশির আর লেলিন? নাকি নির্মম পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল ভয়ংকর রেড ড্রাগনের হাতে?
স্যান্ডেল চুরি হয়ে গেছে শিশিরের। চোর ধরতে গিয়ে শিশিলিনের ক্ষুদে দুই গোয়েন্দা সন্ধান পেল জুতা মফিজের, যে কিনা শুধু জুতা চুরি করে। জুতা মফিজের অনুসন্ধানে তারা যখন মাঠে, তখন বুঝল স্যান্ডেল চুরি করেছে লালু। লালুর পিছনে ছুটে শিশির আর লেলিন পৌঁছাল ঢাকা মেডিকেল কলেজে। কিন্তু বেশিক্ষণ সেখানে থাকতে পারল না। কারণ ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছে জুতা মফিজ। পরিকল্পনাটা জানানো হলো পুলিশকে। কিন্তু পুলিশ আর শিশিলিন মিলে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো পরিকল্পনা ঠেকাতে। ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটেই গেল। জুতা মফিজ যে শুধু জুতা চোর না, তা বুঝতে পারল সবাই। এদিকে চোরাই স্যান্ডেল আর জুতার সন্ধান পেয়ে গেছে শিশির আর লেলিন। বিস্ময়ের ব্যাপার চোর নিজেই ফেরত দিয়ে গেছে সবকিছু। সমীকরণ যেন মিলছে না! এদিকে জুতা মফিজ আর তার দলকে ধরতে গিয়ে চোরা কুঠুরীতে বন্দি হয়ে গেল শিশির আর লেলিন। শক্তভাবে বেঁধে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে তাদের। ভয়ংকর দুস্কৃতিকারীরা কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের গলা কেটে নর্দমায় ফেলে দেবে। কারণ তারা ওদের গোপন আস্তানার অনেক খবর জেনে গেছে। বাঁচার জন্য ছটফট করছে শিশির আর লেলিন। কিন্তু কে তাদের বাঁচাবে? তাদের অবস্থান যে কেউ জানে না। সত্যি একসময় সেই ভয়ংকর মুহূর্ত এলো। এখন হত্যা করা হবে লেলিনকে। এগিয়ে আসছে চাপাতি হাতে একজন!
শেষ পর্যন্ত শিশির আর লেলিন কী রক্ষা করতে পেরেছিল নিজেদের? নাকি করুন মৃত্যু হয়েছিল তাদের? আর কী ঘটেছিল ভয়ংকর জুতা মফিজ আর লালু চোরের ভাগ্যে?
পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরছিল লেলিন। মনটা খুব ফুরফুরে তার। আপাতত আর কোনো পরীক্ষা নেই। স্কুলও কয়েকদিন বন্ধ। তাই আগামী দিনগুলো কীভাবে কাটাবে ভাবছিল সে। রাস্তার মোড়ে আসতেই ভাবনায় ছেদ পড়ল যুবক বয়সী এক ট্যাক্সি ড্রাইভারের কান্নায়। বড় একজন মানুষকে এভাবে রাস্তার মাঝে কাঁদতে দেখে ছুটে গেল লেলিন। কাছে গিয়ে জানতে পারল কিছুক্ষণ আগে ছিনতাই হয়ে গেছে ট্যাক্সি ড্রাইভারের ট্যাক্সিটি। গ্রামের জমিজমা বিক্রি করে আর ব্যাংক লোন নিয়ে অনেক কষ্টে সে ট্যাক্সিটি কিনেছিল। এখন ট্যাক্সি হারিয়ে সে পাগলপ্রায়। লেলিন সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নেয় সাহায্য করবে ট্যাক্সি ড্রাইভারকে। তাই সে ফোন করে বড় ভাই শিশিরকে। শিশিরও সাড়া দেয় লেলিনের প্রস্তাবে। কিন্তু বাস্তবতা যে বড় কঠিন! ট্যাক্সি পড়েছে ভয়ংকর লাল গ্যাংয়ের হাতে। সেখান থেকে ট্যাক্সি উদ্ধার করা আর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা যে একই কথা। তারপরও পিছিয়ে এলো না শিশিলিনের ক্ষুদে দুই সদস্য। শুরু হলো তাদের ট্যাক্সি উদ্ধারের লোমহর্ষক গোয়েন্দা অভিযান।
বন্ধু রাশেদের মামা বাড়িতে বেড়াতে এসে দারুন এক রহস্যের সন্ধান পায় লেলিন। মৃত এক ব্যক্তির লাশ উত্তোলন করতে গিয়ে দেখে লাশের কোনো হাড় নেই। খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এরকম ঘটনা আরও ঘটেছে। রহস্যের গভীরে প্রবেশ করতে গিয়ে নিজেই বুঝতে পারে না কী ভয়ংকর বেড়াজালে জড়িয়ে যাচ্ছে সে। একসময় কঙ্কাল ঘরের মধ্যে আটকা পড়ে যায় বিভীষিকাময় জীবননাশী ড্রামে। মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠে তখন। কিন্তু কে সাহায্য করবে তাকে? শিশির যে জানে না তার অবস্থান। অবশেষে সে অনুমান করতে পারে মৃত্যু আসন্ন। কারণ ড্রামের পানি গরম হতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পানির বাস্প তার শরীরে প্রবেশ করবে। প্রথমে গলে যাবে চোখ, তারপর ঠোঁট, শেষে চামড়া আর মাংস। ভয়ংকর যন্ত্রণাময় হবে তার মৃত্যু। অবশেষে তার শরীরেও কোনো হাড় থাকবে না। কারণ মৃত্যুর পর হাড় থেকে মাংস গুলো আলাদা করবে ভয়ংকর এক চক্র। তারপর শুধু তার মাংসকে মাটি দেয়া হবে। কেউ জানতে পারবে না কী নির্মমভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। শুধু যে তার তা নয়, আরও অনেককে এভাবে মাটি দিয়েছে ভয়ংকর এই চক্র।
শেষ পর্যন্ত কী মুক্তি পেয়েছিল লেলিন? আর কী পরিণতি হয়েছিল ভয়ংকর চক্রটির?
নীলপুর আর আশেপাশের গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কালু ডাকাতের অত্যাচারে। আজ এই গ্রামে তো কাল ঐ গ্রামে ডাকাতি করছে কালু ডাকাত আর দল। ভয়ে সন্ধ্যার পর কেউ দরজা জানালা খোলা রাখে না এই গ্রামগুলোতে। এই কালু ডাকাতকে ধরার প্রজেক্ট হাতে নেয় শিশিলিনের ক্ষুদে গোয়েন্দারা। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি কালু ডাকাত আর তার দলের সদস্যরা কতটা ভয়ংকর। গোপন ফাঁদ পেতে তারা বন্দি করে ফেলে লেলিনকে। হাত পা মুখ বেঁধে তাকে নিয়ে যায় কাফনঝিলে। সেখানে লেলিনের চোখের সামনেই কবর খোঁড়া হয়। ঐ কবরে জ্যান্ত মাটি দেয়া হবে লেলিনকে। লেলিন মুক্তির জন্য প্রাণপন চেষ্টা করতে থাকে। শেষে একসময় বুঝতে পারে তার মুক্তির আর কোনো উপায় নেই। কারণ সে যে এখানে বন্দি তা কেউ জানে না। এমন কী শিশিরও না। তাহলে কে তাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাবে? আর কে আটক করবে কালু ডাকাত আর তার দলকে?
শেষ পর্যন্ত কী শিশির উদ্ধার করতে পেরেছিল লেলিনকে? আর ধরতে পেরেছিল দুর্ধষ কালু ডাকাত আর দলের ভয়ংকর সদস্যদের?
শিক্ষাসফর শেষে ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে ট্রেনে সামিয়া আর তার দাদু হাবিবুর রহমানের সাথে পরিচয় হয় লেলিনের। কথাপ্রসঙ্গে লেলিন জানতে পারল সামিয়ার দাদুর কাছে ঐতিহাসিক এবং দুস্প্রাপ্য একটি মুকুট রয়েছে। এই মুকুট বিক্রি করেই সামিয়ার ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা করা হবে। কিন্তু ঘটনাক্রমে অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে পড়ে হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে মুকুটটি হাতছাড়া হয়ে যায়। মুকুট উদ্ধারে তখন অভিযানে নামে শিশিলিনের দুই সদস্য শিশির আর লিলিন। কিন্তু কীভাবে তারা খুঁজে পাবে প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য সবুর মিয়াকে? আন্ডারওয়ার্ল্ড এর জগত যে বড় ভয়ংকর! এখানে অপরাধীদের যারা ধরতে আসে তারাই ধরা পরে অপরাধীর হাতে। পরিণতি হয় ভয়াবহ। শিশির আর লেলিনের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটল না। তারা যখন মুকুটটি উদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে তখনই আটক পড়ে গেল আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর এক অপরাধী চক্রের বাড়িতে। অপরাধী চক্রের সবাই ততক্ষণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা হত্যা করবে শিশির আর লেলিনকে। মুকুট উদ্ধারের পরিবর্তে শিশির আর লেলিন তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ল নিজেদের জীবন বাঁচাতে। কিন্তু কে তাদের সাহায্য করবে নির্জন বাড়িতে?
শেষ পর্যন্ত কী শিশির আর লেলিন নিজেদের বাঁচাতে পেরেছিল? আর মুকুটটির শেষ ঠিকানাই বা কী হয়েছিল?
রাঙামাটি ভ্রমণে এসে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় শিশির আর লেলিন। তাদের পাশের কুটীরে রাতের অন্ধকারে খুন হয়ে যান প্রফেসর হামিদ। তারা বুঝতে পারে হাজার বছর ধরে রক্ষিত দুটো ডাইনোসরের ডিমের জন্যই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে প্রফেসর হামিদকে। কিন্তু কোথায় সেই অমূল্য আর দুর্লভ ডাইনোসরের ডিম? তাহলে কি তা পাচারকারীদের হাতে পড়েছে? না কি কেউ বিক্রি করে দিচ্ছে বিদেশীদের কাছে? সেই রহস্যের বেড়াজাল ভেদ করতে গিয়ে নির্জন পাহাড়ের উপর বন্দি হয়ে পড়ে দুই ভাই। কেউ নেই তাদেরকে উদ্ধার করতে, মৃত্যু আসন্ন। এদিকে ডাইনোসরের ডিমও হাত ছাড়া হয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত কি শিশিলিনের ক্ষুদে দুই সদস্য উদ্ধার করতে পেরেছিল ডাইনোসরের ডিম দুটোকে? রক্ষা করতে পেরেছিল দেশের অমূল্য আর দুর্লভ সম্পদকে?
বনখালি গ্রামে আতঙ্কের নাম কানা দস্যু। এই কানা দস্যু আজ চাঁদা চায় তো কাল কাউকে অপহরণ করে। কানা দস্যু নাম শুনতেই রক্ত ঠান্ডা হয়ে আসে গ্রামবাসীর। ভয়ে কেউ কানা দস্যুর নাম মুখে আনে না। অবাক ব্যাপার হলো কানা দস্যুকে কেউ চিনেও না। অথচ তার দাবি মতো চলতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। কেউ অমান্য করলে তার জীবন অশান্তিময় হয়ে ওঠে। এই কানা দস্যুকে ধরতে বনখালি গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিশির আর লেলিন। গ্রামে পা রাখতে বুঝতে পারে গ্রামের জীবন স্বাভাবিক নেই। সম্পূর্ণ গ্রাম যেন এক মৃত্যুপুরী। তার উপর নেই ইলেকট্রিসিটি, মোবাইল নেটওয়ার্ক। পৃথিবীর কারো সাথেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন কী, থাকার জায়গাও নেই। সবচেয়ে সমস্যা হচ্ছে, কানা দস্যু সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে চায় না। আর কীভাবে যেন কানা দস্যু সব আগে থেকেই জেনে যায়। যেমন জেনে গেছে তাদের আগমন এবং উদ্দেশ্যের কথা। তাই তো চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, শিশিলিনের সদস্যরা যদি ফিরে না যায় তাহলে করুণ মৃত্যুবরণ করতে হবে তাদের। কিন্তু শিশির আর লেলিন নাছোড়বান্দা। তারা ধরবেই কানা দস্যুকে। কিন্তু বাস্তবতা যে বড় কঠিন! কানা দস্যুর ছায়াও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের নাকের ডগায় একটার পর একটা অপরাধ করে যাচ্ছে কানা দস্যু। এখন তারাই বিপদগ্রস্ত, যে কোনো সময় খুন হতে পারে তারা। শেষ পর্যন্ত কী শিশিলিনের দুই ক্ষুদে গোয়েন্দা ধরতে পেরেছিল কানা দস্যুকে? নাকি তাদের করুণ মৃত্যু বরণ করতে হয়েছিল ভয়ংকর কানা দস্যুর হাতে?