মুনিয়া ক্লাস সেভেনে পড়ে। একদিন সে শিশির লেলিনকে জানালো তাদের বাসার পাশে লাল ইটের একটা বাড়ি আছে। ঐ বাড়িটা খুব রহস্যময়! কারণ গভীর রাতে বাড়িটাতে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করে। বেশ অনেকক্ষণ থেকে আবার বের হয়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সটা যখন আসে তখন কোনো সাইরেন বাজায় না, চলে যাওয়ার সময়ও না। দিনের বেলায়ও মানুষের আনাগোনা একেবারে কম দেখা যায় ঐ বাড়িতে। স্থানীয় মানুষজনও খুব একটা প্রবেশ করে না। একদিন সে ঐ বাড়ির সামনে থেকে একজন মানুষকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে দেখেছে। তারপর আর বের হয়নি মানুষটি। এজন্য সে ঐ বাড়িটির নাম দিয়েছে রহস্যবাড়ি। তার ধারণা ঐ বাড়ির অভ্যন্তরে এমন কিছু ঘটছে যা জানা দরকার, এতে মানুষের উপকার হবে।
সবকিছু শোনার পর শিশির লেলিন রাজি হলো রহস্যবাড়ির রহস্য উন্মোচন করতে। কিন্তু বাস্তবে যে বড় কঠিন কাজটা। কারণ অনেক চেষ্টার পরও বাড়ির অভ্যন্তরে কারা থাকে, কী করে সে বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য জোগাড় করতে পারেনি তারা। আর তাছাড়া ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি ঐ রহস্যবাড়ির তথ্য অনুসন্ধান করার প্রতিক্রিয়ায় তাদেরই উপর নজরদারী শুরু করেছে কেউ, সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে তাদের হত্যা করার।
শেষ পর্যন্ত কী শিশির লেলিন রহস্যবাড়ির রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছিল? নাকি তাদের পরাজিত হতে হয়েছিল রহস্যবাড়ির রহস্যময় মানুষদের কাছে?
‘যাত্রা’ দেখতে গিয়ে লেলিনের সাথে পরিচয় হয় যাত্রাপালার সেনাপতি জব্বার খিলজির মেয়ে সবুজ চোখের আসমার সাথে। কথাপ্রসঙ্গে জানতে পারে জব্বার খিলজির কাছে একটা রুপার সিন্দুক আছে যেখানে রয়েছে অনেক হীরা জহরত। জব্বার খিলজি তার পূর্বপুরুষের কাছ থেকে পেয়েছে রুপার সিন্দুকটি। একমাত্র বিপদগ্রস্ত হলে ঐ সিন্দুক থেকে হীরা জহরত বের করে বিক্রি করা যাবে। জব্বার খিলজি অসুস্থ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রুপার সিন্দুকটি ভাঙা হবে, কারণ চাবিটি আগেই হারিয়ে গিয়েছিল। তাই দিন ক্ষণ ঠিক হয় রুপার সিন্দুক ভাঙার। সবার মধ্যে তীব্র আগ্রহ জন্মে ঐ রুপার সিন্দুককে কেন্দ্র করে, সবাই দেখতে চায় অমূল্য হীরা, জহরত আর অলংকারাদি। আগ্রহী হয়ে ওঠে শিশির লেলিনও। সিন্দুক ভাঙার সময় দুজনেই উপস্থিত থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু রাতের অন্ধকারে আচমকাই চুরি হয়ে যায় ঐতিহাসিক গুরুত্ববহনকারী মহামূল্যবান রুপার সিন্দুকটি। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, সিন্দুক উদ্ধারে ততক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শিশির আর লেলিন।
শেষ পর্যন্ত কি শিশিলিনের ক্ষুদে গোয়েন্দারা উদ্ধার করতে পেরেছিল মহামূল্যবান রুপার সিন্দুক? আর ঐ সিন্দুকে কি আদৌ কোনো হীরা জহরত ছিল? নাকি সবকিছুই ছিল নিছক এক শূন্যতা আর গোলকধাঁধা!
লালপুর গ্রামে শিক্ষা সফরে এসেছে শিশির। এসেই জানতে পারল জব্বার মামা নিখোঁজ। তার খোঁজে তার পালিত ভাগ্নে বাবুল পাগলপ্রায়। জব্বার মামাকে খুঁজতে গিয়ে শিশির জানতে পারল খুলি বাবার কথা। খুলি বাবার ঐশ^রিক ক্ষমতা রয়েছে। থাকে টিলার উপর, সারিয়ে ফেলতে পারে যে কোনো অসুখ। খুলি বাবার ঐশ^রিক ক্ষমতার উৎস জানার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে শিশির। তার সাথে এসে যোগ দেয় লেলিন। দুজন নামে গোপন অভিযানে। একসময় বুঝতে পারে রহস্যময় কিছু মানুষ আসে খুলি বাবার টিলায়। তার রাতের অন্ধকারে আসে আবার রাতেই চলে যায়। এই মানুষগুলো খুব ভয়ংকর। কারণ তাদের কাছে অস্ত্র থাকে। কারা এরা? রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে শিশির লেলিন আটক হয় রহস্যময় মানুষগুলোর কাছে। তারা সিদ্ধান্ত নেয় হত্যা করবে শিশির আর লেলিনকে। বস্তায় ভরে নিক্ষেপ করে খালের পানিতে। কেউ নেই তাদের বাঁচানোর?
শিশির আর লেলিন দুই ভাই। দুজনেই স্কুলছাত্র এবং দারুণ রহস্যপ্রিয়। তারা দুজনে মিলে ‘শিশিলিন’ নামের বিশেষ এক রহস্য সংস্থা খুলেছে। এই সংস্থার কাজ হলো নানারকম...
শিক্ষাসফর শেষে ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে ট্রেনে সামিয়া আর তার দাদু হাবিবুর রহমানের সাথে পরিচয় হয় লেলিনের। কথাপ্রসঙ্গে লেলিন জানতে পারল সামিয়ার দাদুর কাছে ঐতিহাসিক...
রাঙামাটি ভ্রমণে এসে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় শিশির আর লেলিন। তাদের পাশের কুটীরে রাতের অন্ধকারে খুন হয়ে যান প্রফেসর হামিদ। তারা বুঝতে পারে হাজার...